শেয়ার ব্যাবসাঃ ইসলামী পদ্ধতি

ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে শেয়ারগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ ইসলামী শেয়ার, নিরপেক্ষ শেয়ার এবং হারাম শেয়ার।

GROUP-A: ইসলামী শেয়ার

এসব শেয়ার থেকে আপনি নিশ্চিন্তে লভ্যাংশ নিতে পারেন, এগুলো বেচাকেনা করে লাভ করতে পারেন এবং এই ধরণের শেয়ারের আইপিও বা রাইট অফারেও অংশ নিতে পারেন:

১. সকল ইসলামিক ব্যাংক সমূহ।
২. সকল ইসলামিক ইনসিওরেন্স সমূহ।
৩. সকল ইসলামিক ফিনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান সমূহ (নন ব্যাংক ফিন্যানশিয়াল)।
৪. সকল ইসলামিক বন্ড এবং ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড সমূহ।
৫. অন্যান্য সকল ইসলামিক প্রতিষ্ঠান সমূহ, যারা কঠোরভাবে ইসলামী নীতি মেনে চলে।


আমাদের স্টক মার্কেটে যেসব ইসলামী ব্যাঙ্ক আছে তার তালিকাঃ
1. ইসলামী ব্যাঙ্ক
2. আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক
3. সোশাল ইসলামী ব্যাংক
4. শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক
5. এক্সিম ব্যাংক
6. আইসিবি ইসলামিক ব্যাঙ্ক (ORIENTAL BANK),
7. ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাঙ্ক

ইসলামী ইনসিওরেন্সগুলোর তালিকাঃ
8. FAR EAST LIFE,
9. TAKAFUL,
10. PRIME LIFE.
11. ISLAMIC INSURANCE.

নন ব্যাংক ইসলামী ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানঃ
12. ISLAMIC FINANCE

ইসলামী বন্ড এবং মিউচুয়াল ফান্ডসমূহঃ
13. IBBLPBOND,
14. ICBISLAMIC (এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে। আইসিবি নিজে একটি সুদী প্রতিষ্ঠান। সুদীর ভেতর নন-সুদী! একটু খটকা থেকেই যাচ্ছে। তাই এটা থেকে দূরে থাকাই উত্তম। যেমন, সুদী ব্যাংকের 'ইসলামিক ব্রাঞ্চ' থেকে আমরা দূরে থাকি। )

অন্যান্য ইসলামী প্রতিষ্ঠানঃ
15. IBN SINA pharma.

----------------------
প্রশ্ন আসতে পারে, ইসলামী প্রতিষ্ঠান চিনব কিভাবে? চেনার উপায় হলঃ
a. তারা নিজেরাই ঘোষনা করবে যে, তারা ইসলামী শারিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত।
b. তাদের শরিয়াহ কাউন্সিল থাকে।
c. তাদের টাকার মধ্যে যদি কোনো হারাম টাকা চলে আসে তাহলে সেই টাকাটা তারা অলাভজনক খাতে দান করে দেয়।

--------------------------------------------------

GROUP-B: নিরপেক্ষ শেয়ার
কিছু কিছু শেয়ার আছে যেগুলো শুনতে মনে হয় নিরপেক্ষ অর্থাৎ সুদমুক্ত / হালাল। যেমন, খাদ্য, জ্বালানী, সিমেন্ট, সিরামিক, জুতো, ফার্মা, টেক্সটাইল ইত্যাদি। তাদের পন্য বা ব্যাবসা মূলতঃ হালাল। কিন্তু, তারা সুদী ব্যাংক থেকে সুদ ভিত্তিক ঋণ নিয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করে থাকে। অনেক সময় সুদে টাকা ধারও দিয়ে থাকে। যেহেতু তাদের পরিচালনা পরিষদে তাকওয়ার কোনো স্থান নেই, তাই তারা এই ব্যাপারে উদাসীন। ফলে সুদ মিশে যায়। সুতরাং এই ধরনের শেয়ার থেকে দূরে থাকাই ঈমানদারদের কর্তব্য। লভ্যাংশ, আইপিও, বেচাকেনা, রাইট কোনোটাই হালাল নয়। তবে কোনো কোনো লিবারেল মানুষ বলে থাকেন, এগুলোর লভ্যাংশ বাদে বাকি ৩ প্রকার জিনিস হালাল।

-------------------------------------------

GROUP-C: হারাম শেয়ার

এই ধরনের শেয়ারগুলো পুরোপুরি হারাম। আইপিও, লভ্যাংশ, রাইট, বেচাকেনা সবই হারাম। উদাহরণঃ
সুদভিত্তিকঃ সুদী ব্যাংক, ফিন্যান্স, বীমা, বন্ড, ডিবেঞ্চার, মিউচুয়াল ফান্ড ইত্যাদি।
জুয়া ভিত্তিকঃ লটারি, ক্যাসিনো ইত্যাদি।
হারাম পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানঃ মদ, শুকর-মাংস ইত্যাদি।

কারেন্সি বেচাকেনার মাধ্যমে লাভ করাও হারাম। অর্থাৎ পুরো ফরেক্সটাই হারাম।

---------------------------
Note:
শেয়ার ব্যাবসাতে চারভাবে লাভ করা হয়ঃ
A. লভ্যাংশঃ বছর শেষে বা মধ্যবর্তী সময়ে কোম্পানী থেকে শেয়ারহোল্ডারদেরকে দেয়া টাকা, যেটা কোম্পানির অর্জিত মোট মুনাফার একটা অংশ। বোনাস শেয়ারও লভ্যাংশ থেকেই দেয়া হয়।
B. শেয়ার বেচাকেনা করে পাওয়া লাভ। অর্থাৎ কম দামে কিনে বেশি দামে বেচে যে লাভ করা হয়।
C. রাইট শেয়ার। কম দামে রাইট শেয়ার কিনে বেশি দামে বেচা।
D. আই পি ও বা প্রাথমিক শেয়ার। কম দামে কিনে বেশি দামে বেচা।
------------------------------------------

No comments: