পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে রিট

বাংলাদেশ হাইকোর্টে পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করেছেন জনৈক দেব নারায়ন মহেশ্বর। তিনি বলতে চান, ইসমাইল (আঃ) নন, ইসহাক (আঃ)-কে কুরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন তার পিতা হযরত ইবরাহিম (আঃ)।
------------


আমি প্রথমে অবাক হয়েছিলাম এই রিটের কথা শুনে। কিছুটা হাস্যকরও মনে হয়েছিল। পরে দেখি কাহিনী অনেক গভীরে প্রোথিত। হাস্যকর তো নয়ই বরং তলে তলে কাহিনী আছে।
বিষয়টা নিয়ে একটু পড়াশোনা করলাম। জানলাম ভিতরের কথা। ধন্যবাদ জানাই সেই দেব নারায়ন মহেশ্বর বাবুকে, যার উসিলায় আমি এই বিষয়ে জ্ঞান লাভের প্রয়াস পেলাম।

প্রথমেই বলি, এটা নিয়ে বেহুদা তর্কাতর্কি না করাই উচিত। ধর্মে ধর্মে বিতর্ক আমাদের ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে। তর্ক না করে বরং চলুন আলোচনা ও স্টাডি করে দেখি সত্য কথাটা কি?
--------- ----------- --------------

১নং প্রশ্নঃ কাকে কুরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন ইবরাহিম (আঃ)? তিনি শেষ পর্যন্ত কি জন্তু জবাই করেছিলেন? দুম্বা নাকি ভেড়া?

২নং প্রশ্নঃ এই ব্যাপারে বিতর্ক তুলে নারায়ন বাবুদের লাভটা কি?

৩নং প্রশ্নঃ আমাদের সদাশয় সরকার তো 'ইসলাম ধর্ম অবমাননা' বিষয়ে অতি সতর্ক। ভুয়া কারনে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে এবং নির্যাতনও চালানো হয়েছে। এখন অবমাননা হয়নি? এখন কি সদাশয় সরকার দেব নারায়ন বাবুকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালাবেন?

-------- ----------- -----------

১নং প্রশ্নের উত্তরঃ কাকে কুরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন ইবরাহিম (আঃ)?

হযরত ইবরাহিম Abraham (আঃ) এর বংশধারা মূলতঃ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একটা ধারা এসেছে তাঁর বড় ছেলে হযরত ইসমাঈল Ishmael (আঃ) থেকে এবং অপর ধারাটি এসেছে হযরত ইসহাক Isaac (আঃ) থেকে।

তাওরাত এবং ইনজিল শরীফে আল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘একজন মহান নবী আসবেন, তোমরা তার আনগত্য করবে, এবং তিনিই শেষ নবী হবেন।‘ সেই নবীকে চেনার উপায়গুলো স্পষ্ট করে বলে দেয়া ছিল।
(উল্লেখ্য, পূর্বের সকল আসমানী কিতাবেই এই কথা স্পষ্ট করে লেখা ছিল। উদাহরণ স্বরূপ, হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে বর্ণিত কল্কি অবতার, গসপেল অব বার্নাবাসে বর্ণিত ‘প্রশংসিত নবী’, ইত্যাদি )।

সেই থেকে ইহুদী এবং খৃস্টানরা অধীর আগ্রহে সেই শেষ নবীর জন্য প্রতীক্ষা করতেন।

অবশেষে যখন শেষ নবী (মুহাম্মাদ সাঃ) আসলেন (তিনি ইসমাঈল বংশে জন্ম নিলেন) তখন ইহুদি ও খৃস্টানদের মধ্যে যারা সৎপন্থী ছিলেন তারা তাঁকে নির্দিধায় মেনে নিলেন। কিন্তু কিছু লোক ছিল যারা বংশ-গরিমায় অন্ধ ছিল, তারা মেনে নিতে অস্বীকার করে বসল। তারা বলল, আমরাই উচ্চ-বংশের, আমাদের বংশেই (Isaac dynasty) নবী আসা উচিত। Ishmael dynasty’র নবীকে আমরা মানিনা, এই নবী মিথ্যা।

ইতিহাস সাক্ষী দেয়, তারা নিজেদের সাথেই প্রতারণা করেছিল। কারন তাদের (তৎকালীন) তাওরাতের বর্ননা এত স্পষ্ট ছিল যে, নবীকে চিনতে কোনো সমস্যাই হয়নি। তারা জানত, মুহাম্মাদ সাঃ –ই সত্য নবী। বংশ-গরিমার কারনে তারা এমন আচরন করেছিল।

তাওরাত এবং ইনজিল ধীরে ধীরে বিকৃত হতে লাগল, অনেক মনগড়া কথা সেগুলোতে যোগ করা হতে লাগল। মুহাম্মাদ সাঃ কে অস্বীকার করার লক্ষ্যে তারা ইচ্ছাকৃত কিছু বিশেষ ধরনের বিকৃতি ঘটালো। ইসহাক (আঃ) কে বেশি মর্যাদাবান দেখানোর জন্য তারা সচেষ্ট হলো। আর ইসমাঈল (আঃ)-কে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা চলতে লাগল।

মজার ব্যাপার হল, এই বিকৃতিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই স্ব-বিরোধী ও সামঞ্জস্যহীন হয়ে গেল। তারা প্রচার করতে লাগল, ইসমাঈল (আঃ) নন, বরং ইসহাক (আঃ)-ই সেই পুত্র যাকে তার পিতা কুরবানি করতে চেয়েছিলেন। বাইবেলের এক জায়গায় বলা হয়েছে, “ইবরাহীমের বড় ছেলের নাম ইসমায়েল”। আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, “ইবরাহীম তার পরম আদরের ধন একমাত্র ছেলে ইসহাককে কুরবানি করতে চেয়েছিলেন”। এখন আমার প্রশ্ন হলো ২য় ছেলে কিভাবে ‘একমাত্র’ হয়? আমরা জানি, ইসমাইলের জন্ম হয় অনেক সাধনার ফলে, তখন তার বাবার বয়স ছিল ৮৬। বৃদ্ধ বয়সে এই প্রথম সন্তান পেয়ে বাবা ইবরাহিম খুবই আনন্দিত হন এবং সেই ছেলেকে তিনি প্রচন্ড ভালবাসতেন। তাঁর ২য় ছেলে ইসহাকের জন্ম হয় আরো ১৪ বছর পর। সেই ১৪ বছর তাঁর একমাত্র পুত্র ছিলেন ইসমাইল। বাইবেলেই সেকথা বলা আছে।

--------------
বাইবেলের আদিপুস্তকে বলা হয়েছেঃ

"ঈশ্বর ইব্রাহীমের পরীক্ষা করিলেন৷ তিনি তাঁহাকে কহিলেন , হে ইব্রাহিম .................... তুমি আপন পুত্রকে, তোমার অদ্বিতীয় পুত্রকে, যাহাকে তুমি ভালবাস, সেই ইসহাককে লইয়া মোরিয়া দেশে যাও এবং তথাকার যে এক পর্বতের কথা আমি তোমাকে বলিব, তাহার উপর তাহাকে হোমার্থে বলিদান কর৷ " (আদিপুস্তক ২২: ১- ২ )

"আব্রামের স্ত্রী সারী নিঃসন্তান ছিলেন, এবং হাগার নামে তার এক মিস্রীয় দাসী ছিল৷ তাহতে সারী আব্রামকে কহিলেন দেখ সদাপ্রভূ আমাকে বন্ধ্যা করিয়াছেন, বিনয় করি, তুমি আমার দাসীর কাছে গমন কর, কি জানি ইহা দ্বারা আমি পুত্রবতী হইতে পারিব৷ তখন আব্রাম সারীর বাক্যে সম্মত হইলেন ৷ এইরূপে কানান দেশে আব্রাম দশ বৎসর বাস করিলে পর আব্রামের স্ত্রী সারী আপন দাসী মিস্রীয় হাগারকে লইয়া আপন স্বামী আব্রামের সহিত বিবাহ দিলেন৷ পরে আব্রাম হাগারের কাছে গমন করিলে সে গর্ভবতী হইল৷ " (আদি পুস্তক ১৬: ১-৪ )

"সদাপ্রভূর দতূ তাহাকে আরও কহিলেন, দেখ, তোমার গর্ভ হইয়াছে, তুমি পুত্র প্রসব করিবে, ও তাহার নাম ইশমায়েল (ঈশ্বর শুনেন) রাখিবে৷" (আদিপুস্তক ১৬: ১১ )

"আব্রামের ছেয়াশী বৎসর বয়সে হাগার আব্রামের নিমিত্তে ইশমায়েলকে প্রসব করিল ৷" (১৬:১৬ )

"আর ঈশ্বর আব্রাহামকে কহিলেন, তুমি তোমার স্ত্রী সারীকে আর সারী বলিয়া ডাকিওনা, তাহার নাম সারা (রানী) হইল .............. তাহা হইতে এক পুত্রও তোমাকে দিব; .............. তুমি তাহার নাম ইস্‌হাক (হাস্য) রাখিবে ,............ আগামী বৎসরের এই ঋতুতে সারা তোমার নিমিত্তে যাহাকে প্রসব করিবে, ........... পরে আব্রাহাম আপনপুত্র ইশমায়েলকে ও ............... গৃহে যত পুরুষ ছিল, সেই সকলকে লইয়া ঈশ্বরের আজ্ঞানুসারে সেই তাহাদের লিঙ্গাগ্রচর্ম ছেদন করিলেন৷ আব্রাহামের লিঙ্গাগ্রের ত্বক ছেদন কালে তাঁহার বয়স নিরানব্বই বৎসর ৷ আর তাঁহার পুত্র ইশমায়েলের লিঙ্গাগ্রের ত্বক ছেদন কালে তাহার বয়স তের বৎসর ৷ " (আদি পুস্তক ১৭:১৫ - ২৫)

"আব্রাহামের একশত বৎসর বয়সে তাঁহার পুত্র ইসহাকের জন্ম হয়৷" (আদি পুস্তক ২১:৫)
--------------

কুরআনের সুরা সফফাতের ১১২ নং আয়াত পড়লে দেখবেন, সেখানে আল্লাহ তায়ালা ইবরাহিম (আঃ)-কে ইসহাকের জন্মের আগাম সুসংবাদ দেন কুরবানির ঘটনার পর। তার মানে, ইসহাকের জন্মই হয়েছে কুরবানির ঘটনার পর। সুতরাং বাইবেল ও কুরান উভয়েই একমত যে, ইসমাইল প্রথম পুত্র। এবং ইসহাকের জন্ম আরো পরে হয়েছে।


এখন চলুন দেখি কুরআন এই ব্যাপারে কি বলেছে।

সুরা সফফাতের ৯৯ থেকে ১১৩ নং আয়াতের অর্থ নিচে দেয়া হলঃ

৯৯) ইবরাহীম বললো, “আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনিই আমাকে পথ দেখাবেন।

১০০) হে পরওয়ারদিগার! আমাকে একটি সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দাও।”

১০১) (এ দোয়ার জবাবে) আমি তাকে একটি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।

১০২) সে পুত্র যখন তার সাথে কাজকর্ম করার বয়সে পৌঁছুলো তখন (একদিন ইবরাহীম তাকে বললো, “হে পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখি তোমাকে আমি যাবেহ করছি, এখন তুমি বল তুমি কি মনে কর?” সে বললো, “হে আব্বাজান! আপনাকে যা হুকুম দেয়া হচ্ছে তা করে ফেলুন, আপনি আমাকে ইনশাআল্লাহ সবরকারীই পাবেন”

১০৩) শেষ পর্যন্ত যখন এরা দু’জন আনুগত্যের শির নত করে দিল এবং ইবরাহীম পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিল।

১০৪) এবং আমি আওয়াজ দিলাম, “হে ইবরাহীম!

১০৫) তুমি স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়ে দিয়েছো। আমি সৎকর্মকারীদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।

১০৬) নিশ্চিতভাবেই এটি ছিল একটি প্রকাশ্য পরীক্ষা।”

১০৭) একটি বড় কুরবানীর বিনিময়ে আমি এ শিশুটিকে ছাড়িয়ে নিলাম,

১০৮) এবং পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে চিরকালের জন্য তার প্রশংসা রেখে দিলাম।

১০৯) শান্তি বর্ষিত হোক ইবরাহীমের প্রতি।

১১০) আমি সৎকর্মকারীদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।

১১১) নিশ্চিতভাবেই সে ছিল আমার মুসলিম (অনুগত) বান্দাদের অন্তরভুক্ত।

১১২) আর আমি তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিলাম, সে ছিল সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে একজন নবী।

১১৩) বরকত দিলাম তাকে ও ইসহাককে, এখন এ দু’জনের বংশধরদের মধ্য থেকে কতক সৎকর্মকারী আবার কতক নিজেদের প্রতি সুস্পষ্ট জুলুমকারী।
---------------

সুতরাং প্রমানিত হল যে, ইসমাঈল (আঃ) হচ্ছেন সেই বালক, যাকে তার পিতা কুরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন।

এখানে একটা কথা উল্লেখ করা দরকার। আমরা মুসলিমগন কিন্তু ইসমাঈল (আঃ) এবং ইসহাক (আঃ) উভয়কেই খুবই সম্মানিত নবী বলে জানি এবং মানি। কুরআন আমাদেরকে সেভাবেই শিক্ষা দিয়েছে। প্রত্যেক নবীই অত্যন্ত সম্মানিত মানুষ এবং মানবজাতির মহান শিক্ষক। লক্ষ্য করলে দেখবেন, ইহুদি ও খৃস্টান সমাজে ইসহাক বা আইজাক নামে বহু মানুষ আছে, কিন্তু ইসমাঈল বা ইশমায়েল নামে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। অপরপক্ষে মুসলিম সমাজে ইসমাঈল এবং ইসহাক নাম দুটিই অতি কমন।

------ ---- ---- ---
দুম্বা না ভেড়া? এটা কোনো আলোচ্য বিষয়ই হতে পারেনা। আসল কথা হলো, ‘ছেলের’ পরিবর্তে একটি ‘পশুকে’ কুরবানি করা হয়েছিল, এবং সেটা আল্লাহর নির্দেশেই।
সেই পশুর নাম কুরআনে আমি পাইনি। এটা নিয়ে বিতর্ক করা অর্থহীন।

--------- ------------ ----------- ----------

২নং প্রশ্নের উত্তরঃ এ ব্যাপারে বিতর্ক তুলে নারায়ন বাবুদের লাভটা কি?

মুহাম্মাদ সাঃ কে যারা মিথ্যা নবী সাব্যস্ত করতে চায়, তারা একটি অতি প্রাচীন গোষ্ঠি। তারা ইসলাম ধর্মকে মিথ্যা প্রমান করতে চায়, তারা কুরআনকে বানোয়াট প্রমান করতে চায়। তাদের বক্তব্য হল, কুরআনের রচয়িতা আল্লাহ নন, বরং মুহাম্মাদ সাঃ এটা নিজে বানিয়েছেন, প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে তথ্য চুরি করে। তারা কুরআনকে ''বিতর্কিত গ্রন্থ'' প্রমান করার জন্য মহা-উদগ্রীব। আলোচ্য রিটখানা সেই কর্মসূচীর অংশ ছাড়া আর কিছু নয়।
তাদের অনেকগুলো ওয়েবসাইট আছে, যেগুলো আমি নিজেই পড়ে দেখেছি। তারা কুরআনের মধ্যে ভুল খুঁজতে খুঁজতে গলদঘর্ম হচ্ছেন।

‘এক-মেরু-বিশিষ্ট বিশ্ব ব্যবস্থায়’ এখন ইসলাম হচ্ছে পাশ্চাত্য-সাম্রাজ্যবাদের মূল টার্গেট। আর একথা তো সবারই জানা যে, পাশ্চাত্যের খৃস্টান ক্রুসেডারগণ, জায়নবাদীগণ এবং ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদীগণ এখন একতাবদ্ধ হয়েছেন ইসলামের বিরুদ্ধে। মোসাদ, সিআইএ আর ‘র’ প্রকাশ্য ঘোষনা দিয়েই একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

তারা চিল্লাতে চিল্লাতে ফেনা তুলে ফেলছে, ‘ইসলাম মানেই সন্ত্রাস’। পত্রিকা, উপন্যাস, কার্টুন, নাটক, সিনেমা সর্বত্রই একই আবহ।

সজিব ওয়াজেদ জয় সাহেব যখন মাদ্রাসা ও বোরকার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, যখন পোপ বেনেডিক্ট সাহেব ইসলামকে এবং কুরআনকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেন, যখন ফ্রান্সে বোরকার বিরুদ্ধে আইন পাশ হয়, যখন আমাদের মন্ত্রী মহোদয় মাদ্রাসাগুলোকে ‘জঙ্গীদের কারখানা’ বলেন, যখন ভার্জিনিয়ার একটি গির্জা-কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর ১১ই সেপ্টেম্বরকে কুরআন পোড়ানোর দিবস বলে ঘোষনা করেন, যখন নারায়ন বাবু কুরআনের বিরুদ্ধে রিট করেন .........তখন আমি বলি, এগুলো সবই একই সুতোয় গাঁথা।
ওনাদের লাভ একটাই, সাম্রাজ্যবাদের বিস্তার।

-------------------- ----- ----------- --------- --------------- -----

৩নং প্রশ্নের উত্তরঃ
আমাদের সদাশয় সরকার তো 'ইসলাম ধর্ম অবমাননা' বিষয়ে অতি সতর্ক। ভুয়া কারনে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে এবং নির্যাতনও চালানো হয়েছে। এখন এই রিটের মাধ্যমে কি ধর্মের অবমাননা হয়নি? এখন কি সদাশয় সরকার দেব নারায়ন বাবুকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালাবেন?

উত্তরঃ অবশ্যই না।
বরং আমি বলব, যে ‘উদ্দেশ্যে’ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই একই ‘উদ্দেশ্যে’ নারায়ন বাবুকে গ্রেফতার করা হবে না। বরং তাকে মদদ দেয়া হবে।

আমি নিজেও চাই না, তাকে গ্রেফতার করা হোক। বরং আমি আশা করি, তিনি খোলা মন নিয়ে, বিশ্লেষনী ভঙ্গিতে কুরআন বুঝে বুঝে অধ্যয়ন করবেন, এতে তার ভুল ভেঙ্গে যাবে। আমি আরো আশা করব, পোপ বেনেডিক্ট সাহেব, সজিব ওয়াজেদ জয় সাহেব, জায়নবাদীগণ এবং পশ্চিমা খৃস্টান ক্রুসেডারগন সবাই কুরআন বুঝে পড়ুন, দেখবেন, এটা সত্যি সত্যিই স্রষ্টার কাছ থেকে এসেছে, এতেই সবার জন্য কল্যানের বানী রয়েছে। স্রষ্টার এই কল্যান-বানী তো সমগ্র মানবজাতির জন্যই। স্রষ্টার কাছ থেকে মানবজাতির জন্য পথের সঠিক দিশা এই কুরআনেই রয়েছে। সত্যকে মেনে নেয়াই সুস্থ বিবেকের দাবী। (আর সংগত কারনেই, স্পষ্ট সত্যকে মেনে না নিলে স্রষ্টার কাছে আপনি দোষী সাব্যস্ত হবেন।)

সেই সঠিক পথের দিকে সবাইকে আহবান জানাই।

------ --------- -------- --------- ---------
ব্লগ পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে, দৈনিক পত্রিকা থেকে সংশ্লিষ্ট সংবাদটি নিচে দেয়া হলঃ

নয়া দিগন্ত, Mon 2 Aug 2010
ইসলাম ও মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র কোরবানির ‘শুদ্ধতা’ দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে গতকাল একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতি মো: আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ও বিচারপতি রেজাউল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এই রিট আবেনটি দাখিল করেন বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্ট পরিচয় দানকারী দেব নারায়ণ মহেশ্বর। আদালত রিটটি গ্রহণ করে শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। দেব নারায়ণ মহেশ্বর রিট আবেদনে হজরত ইব্রাহিম আ: ও ইসমাইল আ:-এর স্মৃতিবিজড়িত কোরবানির ঘটনা উল্লেখ করে কাকে কোরবানির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তার ব্যাখ্যা দাবি করেন। তিনি হজরত ইসমাইলের আ: পরিবর্তে হজরত ইব্রাহিমের আ: অপর পুত্র হজরত ইসহাককে আ: কোরবানির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন।
রিট আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, স্বপ্ন পূরণ করার জন্য হজরত ইব্রাহিম আ: তার পুত্র ইসমাইলকে নয় বরং ইসহাককে কাত করে শুইয়েছিলেন এবং তদস্খলে ব্যবহৃত জন্তুটিও দুম্বা ছিল না। তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাব হাতে নিয়ে যারা ১৪০০ বছর যাবৎ লোকদের শিক্ষা দিয়ে এসেছে যে, ‘স্বপ্ন পূরণ করার জন্য ইব্রাহিম আ: কোরবানি দিতে ইসমাইল আ:-কে শুইয়েছিলেন’ তারা কাফির, জালিম ও ফাসিক।
দেব নারায়ণ মহেশ্বর কোরবানিসংক্রান্ত বিষয়ে কুরআন শরীফের সূরা আস সাফফাতের ৯৯ থেকে ১২২ আয়াতের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, পবিত্র কুরআনের এ আয়াতে হজরত ইসমাইলকে নয়, হজরত ইসহাককে কোরবানির কথা বলা হয়েছে। এখানে কোরবানির জন্য ইসহাককে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সাথে ইব্রাহিম আ: যে জন্তুটি কোরবানি করেন তা দুম্বা ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি পবিত্র কুরআনের এই বিষয়টি পাঠ্যবইয়ে ভুলভাবে উপস্খাপন করা হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে ভুল রয়েছে। বিষয়টি শুদ্ধ করে প্রকাশ করার জন্য আদালতের নির্দেশের আবেদন জানান তিনি।
জবাবে আদালত বলেন, আমার কাছে কুরআনের বাংলা তরজমাসহ কপি আছে বিষয়টি ভালোভাবে দেখতে হবে। বিষয়টি অত্যন্ত সিরিয়াস। এ বিষয়ে আলেমদের সাথেও কথা বলা প্রয়োজন।
সরকারপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাজিক আল জলিল।
রিট আবেদনে দেব নারায়ণ মহেশ্বর নিজেকে বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্ট দাবি করে ঠিকানা লিখেছেন, ‘বিশ্ব শান্তি পরিষদ, তেলেগু কলোনি মন্দির, সিটি পল্লী,ধলপুর, ঢাকা-১২০৪।’
গতকাল অনেকটা আকস্মিকভাবে এই রিট আবেদন দাখিলের খবরে আদালত আঙিনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দ্রুততার সাথে আদালত রিটটি গ্রহণ করে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। হাজার হাজার বছর ধরে হজরত ইসমাইলের আ: স্মৃতিবিজড়িত কোরবানির ঘটনাটি একটি ঐশী প্রত্যাদেশের মাধ্যমে শিক্ষণীয় বিষয় হিসেবে পঠিত হয়ে আসছে। সম্পূর্ণ ধর্মীয় এই বিষয়টি হঠাৎ কেন আদালতে এ প্রশ্ন আদালত চত্বরে বার বার উচ্চারিত হতে শোনা যায়।

No comments: